হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ নূরুদ্দীন সামাদানি, কোম শহরের ওয়াক্ফ ও দাতব্য বিষয়ক দপ্তরের প্রধান, শনিবার সন্ধ্যায় পবিত্র ইমামজাদে শাহ সাইয়্যেদ আলী (আ.)-এর মাজারে অনুষ্ঠিত বিশেষ অনুষ্ঠান "রাহরাওয়ানে যায়নাবি"-তে আশুরার আন্দোলনের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে বলেন:
এই মহান শিক্ষালয় থেকে প্রকৃত উপকার লাভ তখনই সম্ভব, যখন শোকসভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা হবে এবং তার শিক্ষাগুলো মানুষের আচরণ ও জীবনধারায় প্রতিফলিত হবে।
তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের স্বাগত জানিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে শহীদদের মাতা ও স্ত্রীদের, ইসলামী সমাজের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আশুরার ঘটনাকে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা যায়, এবং প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গিই এই মহান আন্দোলন থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্মিলিতভাবে এগুলো একজন মুমিন মানুষের চরিত্র গঠনের পথ সুগম করে।
হাওজা ইলমিয়ার এই গবেষক বলেন, প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি হলো আধ্যাত্মিকভাবে আশুরার শোকসভা থেকে বরকত লাভ করা। শোকের আসরে উপস্থিত হওয়া, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মুসিবতের জন্য অশ্রুপাত করা এবং সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে উপকৃত হওয়া মানুষের আত্মিক ও নৈতিক বিকাশে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আশুরার দর্শন জানা সন্দেহ ও বিভ্রান্তির জবাব দেয়
তিনি বলেন, এই আধ্যাত্মিক দিকের পাশাপাশি আশুরার আন্দোলন সম্পর্কে গভীর ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের দর্শন, উদ্দেশ্য এবং কেন তিনি ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ (বাইআত) দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন-এসব বিষয় সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত।
তার মতে, এই জ্ঞান মানুষের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয়ের যথাযথ উত্তর দিতে সক্ষম করে এবং আশুরার সংস্কৃতি সঠিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
কারবালার ঘটনার ব্যাপক তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশুরা মানবজাতির জন্য এক বিশাল শিক্ষালয়, যেখানে নৈতিক গুণাবলির এক অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে এই ঘটনায় নৈতিক অধঃপতনেরও স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। এ কারণেই বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের বহু চিন্তাবিদ ও গবেষক আশুরার নানা দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।
কোম শহরের ওয়াক্ফ ও দাতব্য বিষয়ক দপ্তরের প্রধান বলেন, আশুরার আন্দোলন থেকে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এর শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা। তখনই বলা যাবে যে আমরা আশুরার শিক্ষা অর্জন করেছি, যখন আমাদের আচরণ, কথা ও জীবনধারায় হুসাইনি ও যায়নাবি আদর্শের প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শের ভিত্তিতে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলা এবং এই শিক্ষার প্রতি বাস্তব আনুগত্যই ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার সর্বশ্রেষ্ঠ ফল, যার ইতিবাচক প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের উন্নতিতে প্রকাশ পাবে।
শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম সামাদানি আশা প্রকাশ করেন যে, সমস্ত শিয়া মুসলমান শোকসভার আধ্যাত্মিক বরকত লাভের পাশাপাশি আশুরার আন্দোলনের দর্শন সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করবেন এবং বাস্তব জীবনেও ইমাম হুসাইন (আ.) ও হযরত যায়নাব (সা.)-এর আদর্শের প্রকৃত অনুসারী হয়ে উঠবেন।
আপনার কমেন্ট